ক্রেতা গাইড · গহনা ২০২৬
কুন্দন কানের দুল কিনবেন? ৫টি জিনিস না জানলে ঠকবেন
গত ঈদে নিউমার্কেটে "হাতের কাজের কুন্দন" কিনেছিলাম ৮৫০ টাকায়। তিন মাসেই পাথর খুলে গেল। পরে জানলাম, পাশের দোকানে একই দামে আসল মীনাকারি পাওয়া যায় — যেটা এখনও ঠিকঠাক আছে। পার্থক্যটা আগে জানলে ভালো হতো।
কুন্দন, মীনাকারি, চাঁদবালি — এক জিনিস না
বাজারে তিনটি নাম প্রায়ই মিলিয়ে ফেলা হয়। কুন্দন মানে সোনালি বা রুপালি ফ্রেমে পাথর বসানো — মুঘল আমলের এই কৌশলে গলানো ধাতুর পাত দিয়ে পাথর আটকানো হয়। মীনাকারি হলো ধাতুর ওপর রঙিন এনামেল করার শিল্প, জয়পুরে ৫০০ বছর ধরে চলছে। চাঁদবালি শুধু একটা আকৃতি — অর্ধচন্দ্রের মতো ঝুলন্ত ডিজাইন, যেকোনো কাজেই হতে পারে।
সমস্যা হলো দোকানে সবকিছুকেই "কুন্দন" বলা হয়। কুন্দন-মীনাকারি চাঁদবালি, কুন্দন ঝুমকা, কুন্দন স্টাড — সব একই শেলফে। নাম দেখে বিভ্রান্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
হাতের কাজ বনাম মেশিন — চেনার সহজ উপায়
হাতের কাজের কুন্দনে পাথরগুলো একটু অসামঞ্জস্য থাকে। পাশের পাথরের তুলনায় একটু হেলানো, একটু উঁচুনিচু — কারিগরের হাতের চিহ্ন। মেশিনে বানানো গহনায় পাথরগুলো ক্যালকুলেটর-প্রিন্টের মতো একদম নিখুঁত সারিতে। দেখতে চকচকে, কিন্তু কোনো শিল্পীর স্পর্শ নেই।
আলোয় কাত করে দেখুন। হাতের কুন্দনে ধাতুর পৃষ্ঠে খাঁজকাটা টেক্সচার আছে — মসৃণ আয়নার মতো না। মেশিনের গহনা আয়নার মতো চকচকে। এই পার্থক্যটা একবার চোখে পড়লে আর ভুল হবে না।
দাম কত হওয়া উচিত?
ঢাকায় নিউমার্কেট বা চকবাজারে মেশিনের কুন্দন স্টাড ৳১৫০–৳৪৫০। হাতের কাজের ছোট কুন্দন ঝুমকা শুরু ৳৬০০ থেকে। মীনাকারি চাঁদবালি ৳৯০০–৳২,৫০০। বিয়ের পোশাকের সাথে মেলানো ফুল কুন্দন সেট ৳৩,০০০–৳৮,০০০।
কেউ যদি বলে "আসল হাতের কুন্দন মাত্র ৳২৫০" — বিশ্বাস করবেন না। একজন কারিগর একটা মীনাকারি চাঁদবালি তৈরি করতে ৩–৪ ঘণ্টা সময় দেন। ওই দামে সম্ভব না।
কোন অনুষ্ঠানে কোনটা?
- বিয়েতে: কুন্দন-মীনাকারি চাঁদবালি বা ঝুমকা। লাল-সবুজ মীনার কাজ শাড়ির রঙের সাথে টেনে নেয়। বাজেট ৳১,৫০০-র নিচে না রাখাই ভালো।
- ঈদ বা কর্পোরেট পার্টিতে: হালকা কুন্দন স্টাড বা ছোট চাঁদবালি। ৳৬০০–৳১,২০০ রেঞ্জে ভালো অপশন পাওয়া যায়।
- রোজকার পরার জন্য: মেশিনের কুন্দনে দোষ নেই। ৳২০০–৳৪০০-তে পাবেন, হারালে বা ভাঙলে মন খারাপ হবে না।
যত্ন না নিলে তিন মাসেই শেষ
কুন্দন গহনা পানিতে ভেজানো যাবে না। পারফিউম বা সেন্ট লাগানোর পর পরবেন না — রাসায়নিক পাথরের আঠায় লাগে। রাখুন আলাদা কাপড়ে মোড়া করে, অন্য গহনার সাথে একসাথে নয়। আর পাথর আলগা হলে ই-৬০০০ বা অ্যারালডাইট ক্লিয়ার গ্লু দিয়ে সাবধানে সেঁটে দিন।
মীনাকারির রঙ একবার উঠলে ঘরে সারানো কঠিন। কারিগরের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাই শুরুতেই ভালোটা কিনুন — মেহনত বাঁচবে।