অনুচ্ছেদ রচনা · পরীক্ষার প্রস্তুতি
নকশী কাঁথা অনুচ্ছেদ রচনা — ক্লাস ৭, ৮, ৯ (বাংলা ও ইংরেজি)
ক্লাস ৮-এর বাংলা পরীক্ষায় নকশী কাঁথার অনুচ্ছেদ এলে অনেক ছাত্রছাত্রী শুধু লেখেন "পুরোনো কাপড়ের তৈরি কাঁথা।" এটুকুতে বেশি নম্বর আসে না। নিচে তারিখ, জেলার নাম ও GI স্বীকৃতি সহ প্রস্তুত অনুচ্ছেদ দেওয়া হলো। সরাসরি ব্যবহার করা যাবে।
বাংলায় প্রস্তুত অনুচ্ছেদ (১৩০ শব্দ)
নকশী কাঁথা বাংলাদেশের একটি প্রাচীন হস্তশিল্প। পুরোনো শাড়ি, ধুতি বা সুতি কাপড়ের কয়েকটি স্তর একসাথে জুড়ে, রঙিন সুতা দিয়ে হাতে সেলাই করে এই কাঁথা তৈরি হয়। সেলাইয়ের বিশেষ কৌশলকে বলা হয় কাঁথা ফোঁড়। কাঁথার নকশায় ফুটে ওঠে ফুল, পাখি, লতাপাতা, গ্রামীণ জীবন ও লোককথার দৃশ্য। ময়মনসিংহ, যশোর ও রাজশাহী এই শিল্পের তিনটি প্রধান কেন্দ্র। গ্রামের নারীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কাজ করে আসছেন। ১৯২৯ সালে কবি জসীমউদ্দীন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'নকশীকাঁথার মাঠ'-এ এই শিল্পকে বাংলা সাহিত্যে অমর করেছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার নকশী কাঁথাকে দেশের জাতীয় অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমানে এই কাঁথা দেশে-বিদেশে সংগ্রহযোগ্য শিল্পকর্ম হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
* এই অনুচ্ছেদ সরাসরি পরীক্ষায় ব্যবহারের উপযোগী। চাইলে শেষ লাইন বাদ দিলে ১১৫ শব্দে আসবে।
English paragraph (for English medium / bilingual students)
Nakshi kantha is a traditional hand-stitched quilt from Bangladesh with a history stretching back at least five hundred years. Artisans layer old saris or cotton cloth together and embroider them with colorful thread using a running stitch called "kantha phord." The designs depict flowers, birds, nature scenes, rural life and characters from folk tales. Mymensingh, Jashore, and Rajshahi are the three main production centers. The craft is carried out almost entirely by rural women, passed down from mother to daughter across generations. In 1929, poet Jasimuddin immortalized it in his epic poem "Nakshikanthar Matha." In 2013, the Government of Bangladesh formally listed nakshi kantha as a national Intangible Cultural Heritage. Today it is sold and collected worldwide as fine folk art, with museum-quality pieces fetching several hundred dollars abroad.
পরীক্ষায় বেশি নম্বরের জন্য যা অবশ্যই লিখবেন
বেশিরভাগ শিক্ষার্থী শুধু লেখেন "পুরোনো কাপড়ের কাঁথা, নারীরা বানায়।" এটুকু লিখলে পাসমার্ক পাওয়া যায়। কিন্তু নম্বর বেশি পেতে চাইলে চারটি জিনিস দরকার:
- তারিখ দুটো মনে রাখুন: ১৯২৯ — জসীমউদ্দীনের কবিতা। ২০১৩ — জাতীয় ICH তালিকাভুক্তি।
- জেলার নাম লিখুন: ময়মনসিংহ, যশোর, রাজশাহী — যেকোনো দুটো হলেও যথেষ্ট।
- কারিগরের পরিচয় স্পষ্ট করুন: "গ্রামীণ নারীরা" বলুন, শুধু "মানুষ" নয়।
- GI বা ICH স্বীকৃতি উল্লেখ করুন: সরকারি স্বীকৃতির কথা থাকলে অনুচ্ছেদে ওজন বাড়ে।
নকশী কাঁথা কি শুধু কাপড়?
না। এটা স্মৃতির জায়গা।
আগে গ্রামের মা তার মেয়ের বিয়েতে যে কাঁথা দিতেন, সেটা শুধু বিছানার কাজে লাগত না। সেই কাঁথার নকশায় থাকত পরিবারের গল্প, মায়ের ইচ্ছা, কষ্টের স্মৃতি। জসীমউদ্দীন সেটাই ধরেছিলেন ১৯২৯-এ, যখন লিখলেন: "মধু ছিল, চাঁদ ছিল, মিষ্টি রোদের হাসি।"
এজন্যই পুরোনো নকশী কাঁথার দাম শুধু কাপড়ের হিসেবে হয় না। একটি ভালো পুরোনো কাঁথা ৳৮,০০০ থেকে ৳২৫,০০০ পর্যন্ত বিক্রি হয়। লন্ডনের নিলামঘরে কোনো কোনো টুকরা $৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। কারিগরি থেকে শিল্পকর্মে এই যাত্রাটাই নকশী কাঁথার আসল পরিচয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
নকশী কাঁথা কী?
নকশী কাঁথা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প। পুরোনো শাড়ি বা সুতি কাপড়ের স্তর একসাথে জুড়ে রঙিন সুতা দিয়ে হাতে সেলাই করে তৈরি হয়। নকশায় থাকে প্রকৃতির দৃশ্য, লোককথার চরিত্র ও গ্রামীণ জীবনের ছবি।নকশী কাঁথা কোথায় তৈরি হয়?
ময়মনসিংহ, যশোর ও রাজশাহী নকশী কাঁথার প্রধান কেন্দ্র। ময়মনসিংহে জ্যামিতিক নকশা বেশি, যশোরে ফুলেল ও লতাপাতার নকশা বিখ্যাত, রাজশাহীর কাঁথায় মিহি সুতার কাজ।নকশী কাঁথা কে তৈরি করেন?
গ্রামের নারীরা মূলত এই কাজ করেন। মা থেকে মেয়ে — প্রজন্ম ধরে এই শিল্প বাহিত হয়েছে। রাজদরবার নয়, সংসার থেকে জন্ম এই শিল্পের।নকশী কাঁথা কবিতায় কে লিখেছেন?
কবি জসীমউদ্দীন ১৯২৯ সালে "নকশীকাঁথার মাঠ" কবিতা লেখেন। এই কবিতায় একজন মা তার মেয়ের জন্য কাঁথায় জীবনের গল্প বুনে যাচ্ছেন। কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা কাজ।নকশী কাঁথার অনুচ্ছেদ ক্লাস ৮-এ কত শব্দের লিখতে হয়?
সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ শব্দের মধ্যে অনুচ্ছেদ লিখতে হয়। তারিখ (১৯২৯, ২০১৩), জেলার নাম (ময়মনসিংহ, যশোর, রাজশাহী), কারিগরের পরিচয় (গ্রামের নারী), GI স্বীকৃতি — এই চারটি তথ্য থাকলে নম্বর বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।