পাটিঘর · সিলেট
মুর্তার গল্প
হাওরের কাদায় জন্মানো একটা গাছ। ছয় ধাপ পরে সেটা আপনার কাঁধের ব্যাগ। স্ক্রল করুন।
ধাপ ১
যেখানে জন্মায়
মুর্তা কোনো বাঁশ নয়, বেতও নয়। এটা আলাদা গাছ — Schumannianthus dichotomus — জন্মায় সিলেটের হাওর-জলাভূমির ধারে, যেখানে মাটি বছরের অর্ধেক সময় ভেজা থাকে। শুকনো জমিতে লাগালে গাছ হয়, কিন্তু কাণ্ড সেই নরম হয় না।
এই কারণেই মুর্তার কাজ সিলেটেই থেকে গেছে। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট সদর — বাকি দেশে যেসব “শীতল পাটি” বিক্রি হয়, তার বড় অংশ প্লাস্টিক বা সাধারণ বাঁশের।
ধাপ ২
কাটা
কাণ্ড পরিণত হতে তিন থেকে চার বছর লাগে। কাঁচা কাটলে চিড় করার সময় ফেটে যায়, বেশি পুরনো হলে শক্ত হয়ে বাঁকে না। কারিগর গায়ে হাত বুলিয়ে বোঝেন — এটা মাপার যন্ত্র নেই।
কাটা হয় দা দিয়ে, গোড়ার কাছ থেকে। এক আঁটিতে চল্লিশ-পঞ্চাশটা কাণ্ড, কাঁধে করে বাড়ি।
ধাপ ৩
চিড়
এটাই সবচেয়ে কঠিন ধাপ। একটা কাণ্ড লম্বালম্বি চিরে বের করা হয় চুলের মতো সরু ফালি — বাংলায় বলে চিড়। সরু যত, পাটি তত সূক্ষ্ম, দাম তত বেশি।
হাতির দাঁতের পাটি — সবচেয়ে উঁচু শ্রেণী — এত সরু চিড়ে বোনা হয় যে এক বর্গফুটে কয়েক হাজার ফালি পড়ে। এই কাজ শিখতে বছর লাগে, আর হাত কাটে।
ধাপ ৪
রোদ
চিড় রোদে শুকানো হয়। কতদিন — সেটা আকাশ ঠিক করে। কড়া রোদে রং সাদার দিকে যায়, মেঘলা দিনে ফালি হলদেটে থেকে যায়। বর্ষায় কাজ প্রায় বন্ধ।
রং লাগলে এই ধাপেই। প্রাকৃতিক রঙে ডুবিয়ে আবার শুকানো — লাল, সবুজ, কালো। নকশি পাটির নকশা এখানেই ঠিক হয়ে যায়, বোনার আগে।
ধাপ ৫
বুনন
কোনো তাঁত নেই। মেঝেতে বসে, হাতে। সাত ফুট বাই পাঁচ ফুট একটা নকশি পাটি বুনতে একজন কারিগরের বিশ থেকে বাইশ দিন লাগে। নকশা কাগজে আঁকা থাকে না — মাথায় থাকে।
২০১৭ সালে UNESCO এই বুনন কৌশলকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলাদেশের পক্ষে অন্তর্ভুক্ত করে। কাজটা প্রধানত নারীদের।
ধাপ ৬
আপনার হাতে
পাটিঘর একই মুর্তা, একই বুনন ব্যবহার করে ব্যাগ আর বাক্স বানায়। মাদুর সবাই ঘরে পাতে না — ব্যাগ রোজ হাতে থাকে। শিল্পটা টিকে থাকে যখন জিনিসটা ব্যবহার হয়।
কারুবাড়িতে পাটিঘরই প্রথম শপ যারা সত্যিকারের শীতল পাটির উপকরণ নিয়ে কাজ করে। কারিগরের এলাকা, দাম, ছবি — সবই শপ পেজে খোলা।
পাটিঘর শপ দেখুন →পাটিঘর




