ক্রেতা গাইড · দাম

শীতল পাটির দাম ২০২৬ — সাইজ ও মান অনুযায়ী পরিসর

২০২৩ সালে সুনামগঞ্জের একজন পাটিয়াল আমাদের বলেছিলেন, “দাম জিজ্ঞেস না করে মান জিজ্ঞেস করুন। মান বুঝলে দাম মিলবে।” শীতল পাটির দাম শুধু সাইজে ঠেকে না। চিড়ের মাপ, বুনন, নকশার জটিলতা এবং কোথা থেকে কিনছেন — সবটাই হিসাবে আসে।

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬৫ মিনিট পড়ার সময়

সাধারণ শীতল পাটির দাম

বাজারে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাধারণ গ্রেডের শীতল পাটি। এই গ্রেডে চিড়ের চওড়া দেড় থেকে দুই মিলিমিটার। সিলেট অঞ্চলের পাটিয়ালদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী সাইজভেদে দামের পরিসর:

  • . ২ ফুট × ৩ ফুট: ৳৩৫০ থেকে ৳৮০০
  • . ৩ ফুট × ৫ ফুট: ৳৮০০ থেকে ৳১,৮০০
  • . ৪ ফুট × ৬ ফুট: ৳১,৫০০ থেকে ৳৩,০০০
  • . ৬ ফুট × ৮ ফুট বা বড়: ৳৩,০০০ থেকে উপরে

ঢাকার দোকানে একই মানের পাটির দাম সাধারণত পঞ্চাশ থেকে আশি শতাংশ বেশি। মধ্যস্বত্বভোগীর মার্জিন যোগ হলে দাম এভাবেই বাড়ে।

নকশি পাটি ও হাতির দাঁতের পাটির দাম

রঙিন ডিজাইনের নকশি পাটি সাধারণ পাটির চেয়ে দামি। একটা ৩ ফুট × ৫ ফুটের নকশি শীতল পাটিতে ৳১,২০০ থেকে ৳৩,০০০ পড়তে পারে। শাপলা, ময়ূর বা জামদানি মোটিফের পাটিতে কারিগরের বেশি সময় লাগে, তাই দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।

হাতির দাঁতের গ্রেড আলাদা হিসাব। চিড়ের মাপ এক মিলিমিটারের নিচে নামলে একই সাইজের পাটি তৈরিতে কারিগরের সময় দ্বিগুণ বা তার বেশি লাগে। ৩ ফুট × ৫ ফুটের হাতির দাঁতের পাটির দাম ৳৩,৫০০ থেকে ৳৭,০০০। বিশেষ বুনন বা বড় সাইজের হলে ৳১২,০০০ও পেরিয়ে যায়।

দাম কম-বেশি কোন কারণে হয়

চিড়ের মাপ সবচেয়ে বড় নির্ধারক। মুর্তা বেত যত সরু করে চেরা হয়, বোনার সময় তত বেশি, কারিগরের পারিশ্রমিক তত বেশি। দেড় মিলিমিটারের চিড়ে তিন দিন লাগলে এক মিলিমিটারে পাঁচ থেকে সাত দিন লাগতে পারে একই সাইজের পাটিতে।

নকশার জটিলতাও দাম বাড়ায়। সাদা সাধারণ পাটিতে শুধু সমান বুনন। নকশি পাটিতে রঙিন চিড় আলাদা তৈরি করে ডিজাইন অনুযায়ী সাজাতে হয়। এই কাজ দক্ষ পাটিয়ালের — সবাই পারেন না।

মুর্তা গাছের প্রাপ্যতাও একটা কারণ। সিলেটের জলাভূমিতে এই গাছ জন্মায়। মৌসুমে কাঁচামাল পর্যাপ্ত থাকলে দাম কিছুটা কম থাকে। শুষ্ক মৌসুমে সংগ্রহ কমলে উৎপাদন খরচ বাড়ে।

কোথায় কিনবেন, কোথায় দাম কম

সিলেটের স্থানীয় হাটে সবচেয়ে কম দামে শীতল পাটি পাওয়া যায়। মৌলভীবাজার বা সুনামগঞ্জের সাপ্তাহিক হাটে পাটিয়ালরা সরাসরি বিক্রি করেন। সমস্যা হলো মান যাচাই করা কঠিন যদি এলাকায় পরিচিত না হন।

ঢাকার শোরুম বা হস্তশিল্প দোকানে একই মানের পাটি বেশি দামে পাবেন। দামের পার্থক্য পঞ্চাশ থেকে একশো শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। মান নির্ভরযোগ্য, কিন্তু দামের বড় অংশ রিটেইলারের মার্জিনে যায়।

অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ৳৮০০ থেকে ৳২,০০০-এ শীতল পাটি পাওয়া যায়। কিনার আগে চিড়ের মাপ জিজ্ঞেস করুন। এই তথ্য না থাকলে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। কারুবাড়িতে প্রতিটি শীতল পাটির পাতায় চিড়ের মাপ, কারিগরের নাম ও জেলার তথ্য দেওয়া থাকে।

কম দামে কিনলে কারিগর কী পান

সস্তা পাটি সবসময় খারাপ মানের না। মোটা চিড়ের সাধারণ শীতল পাটি গরমে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু দাম অস্বাভাবিক কম হলে সেটা সাধারণত কারিগরের খরচে আসে।

UNESCO ২০১৭ সালে শীতল পাটি বুনন কৌশলকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রেখেছে। সরু চিড়ের পাটি বানানোর কারিগর সংখ্যা প্রতি বছর কমছে কারণ নতুন প্রজন্ম এতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ন্যায্য দাম না পেলে এই শিল্প টিকবে না।

আরও পড়ুন

কারিগরের পাটি সরাসরি কিনুন

কারুবাড়িতে প্রতিটি শীতল পাটির পাতায় চিড়ের মাপ, কারিগরের নাম ও সিলেটের জেলার তথ্য লেখা থাকে। মান না জেনে কেনার ঝুঁকি নেই।

এই লেখা সম্পর্কে

লেখক: কারুবাড়ি টিম. তথ্যসূত্র: সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পাটিয়ালদের সাথে সরাসরি কথোপকথন (২০২৩-২০২৪)। ভুল তথ্য পেলে hello@karubari.com-তে জানান। শীতল পাটির বিস্তারিত: শীতল পাটি গাইড